রোজা ভঙ্গের কারণ

“যে ব্যক্তি এই মাসটি পাবে সে যেন অবশ্যই এই মাসের রােজা পালন করে” (আল-কুরআন)। মহা পবিত্র আল-কুরআনে রােজাকে রমাদান হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। যার অর্থ হচ্ছে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও যাবতীয় ইন্দ্রিয় তৃপ্তি থেকে বিরত থাকাই হচ্ছে রােজা। রোজার মাধ্যমে আল্লাহর প্রিয় বান্দাহ হওয়ার যথেষ্ঠ সুযোগ রয়েছে। যে সকল কারনে রোজা ভঙ্গ হয় সে সব বিষয় নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনা। রােজা থেকে সঠিক ফায়দা হাসিলের জন্য রোজা ভঙ্গের কারণ জানা একান্ত প্রয়ােজন। নিন্মে তা আলোচনা করা হলঃ

রোজা ভঙ্গের কারণ

 

রোজা ভঙ্গের কারণ

যে সকল কারণে রোজার কাজা আদায় করতে হবে:
১। কুলি করার সময় হঠাৎ গলায় পানি ঢুকে গেলে।
২। জোর করে গলায় কিছু ঢুকিয়ে দিলে।
৩। নাকের ভিতর বা কানের ভিতর ঔষধ ঢেলে দিলে।
৪। ইচ্ছাকৃতভাবে মুখভরে বমি করলে।
৫। অখাদ্য যেমন কাঁকড়, মাটি বা কাঠের টুকরা খেলে।
৬। পায়ুপথে পিচকারী দিলে।
৭। পেটে বা মস্তিষ্কে ঔষধ লাগালে তার তেজ যদি উদর বা মস্তিষ্কে প্রবেশ করে।
৮। ঘুমের ভিতর পেটে কিছু প্রবেশ করলে।
৯। রাত আছে মনে করে বা সূর্য ডুবে গেছে মনে করে কিছু খেয়ে ফেললে।
১০। অনিচ্ছাকৃত কারণে বমি আসার পর মুখের ভিতর থেকে তা পুনরায় গিলে ফেললে।
১১। দাঁতের ভিতর লুকিয়ে থাকা ছোলা পরিমাণ কিছু বের করে তা গিলে ফেললে।

যে সকল কারণে রােজা ভঙ্গ করা যায়

১। অসুস্থ অবস্থায় রােজা রাখলে রােগ বৃদ্ধির আশংকা থাকে এবং রােজা থাকলেও এমতাবস্থায় রােজা ভাঙ্গা জায়েয হবে।
২। রােজাদার কোন মহিলার রােজা রাখার ফলে যদি দুধ কমে যাওয়ার আশংকা থাকে এবং শিশুর কষ্ট হয়, তখন ঐ মহিলা রােযা ভঙ্গ করতে পারবে।
৩। বয়স বৃদ্ধির কারণে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়লে।
৪। রােজা রাখার কারনে গর্ভের সন্তান যদি ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।
৫। ক্ষুধা তৃষ্ণায় মৃত্যুর আশংকা থাকলে।
৬। মুসাফির অবস্থায় থাকলে।
৭। সাপে দংশন করলে।
৮। মহিলাদের হায়েয-নেছাফ হলে রােযা ভঙ্গ করবে।

 

যে সকল কাজে রােজা ভঙ্গ হয় না

১। রােযা রাখা অবস্থায় ভুলবশতঃ কোন কিছু পানাহার করে ফেললে, তবে রােযার কথা মনে পড়লেই মুখে যা কিছু আছে সব ফেলে দিতে হবে।
২। তৈল মালিশ করলে।
৩। মুখের থুথু গিলে ফেললে।
৪। সামান্য পরিমাণ বমি হলে।
৫। নাক কিংবা কানের মধ্যে পানি ঢুকলে।
৬। আতর, লােবান, আগর বাতি প্রভৃতির সুবাস গ্রহণ করলে।
৭। স্বপ্নদোষ হলে।
৮। চোখের মধ্যে সুরমা লাগালে।
৯। মিথ্যা কথা ও অশ্লীল বাক্যালাপ করলে।
১০। চুকা ঢেকুর ওঠলে।।
১১। অন্যের গীবত করলে।
১২। হঠাৎ করে অনিচ্ছা সত্ত্বেও মশা-মাছি বা ধূলাে-বালি গলার ভিতর ঢুকে গেলে।
১৩। দিনের বেলায় ফরয গােসল করলে।
১৪। রােগবশতঃ বিনা উত্তেজনায় মনি নির্গত হলে।

 

রােজার কাফফারা

যে সকল ব্যক্তির উপর রােজার কাযা ও কাফফারা উভয়ই আদায় করা ওয়াজিব হয়ে যায়, সে সকল ব্যক্তি একটি রােজার পরিবর্তে একটি রােজা রাখবে তার কাফফারা স্বরূপ। একটি সুস্থ সবল নিখুঁত গােলামকে মুক্ত করে দিবে। এতে যদি সক্ষম না হয়, তবে ৬০ জন মিসকীনকে পরিপূর্ণ সহকারে এক বেলা আহার করাবে। এতেও যদি সক্ষম না হয়, তবে একজন মিসকীনকে নিজে যেভাবে আহার করে ঠিক সেভাবে ৬০ দিন পর্যন্ত আহার করাবে। আর এতেও যদি অক্ষম হয়, তবে দুই মাস লাগাতার রােযা রাখবে। এতে ৬০ দিনের মধ্যে যদি একটি রােজাও ছুটে যায়, তবে আবার প্রথম থেকে ৬০ দিন পরিপূর্ণ করতে হবে। পূর্বের দিনগুলাের রােজা কোন কাজে আসবে না। এক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে যে, যেন কাফফারা আদায় করার সময়ে বছরে হারামের ৫ দিনে না পড়ে। আর স্ত্রী লােকের ক্ষেত্রে যদি কাফফারা আদায় করা অবস্থায় হায়েয উপস্থিত হয়, তবে হায়েযের সময় সীমার মধ্যে রােজা না রেখে পবিত্র হওয়া মাত্রই রােজা রাখা আরম্ভ করতে হবে।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে রোজা ভঙ্গের কারণ ও রোজার সকল নিয়ম কানুন মেনে এবং রোজার যথাযথ হক আদায় করে সঠিক ভাবে রোজা রাখার তৈফিক দান করুন। আমিন।।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x
error: Content is protected !!