দোয়া কুনুত

বিতরের নামাযে দোয়া কুনুত পড়া ওয়াজিব। এই দোয়াটি তৃতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়ার পর এর সাথে সূরা মিলিয়ে পড়ে তাকবীর বলে হাত বেঁধে তারপর পড়তে হয়। আজ আমরা এখানে দোয়া কুনুত এর আরবি, বাংলা উচ্চারণ ও এর অর্থ এখানে আলোচনা করবো। যত দ্রুত সম্ভব জানা না থাকলে মুখস্ত করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হল। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক-

 

দোয়া কুনুত

দোয়া কুনুত

দোয়া কুনুত এর আরবী

اَللَّهُمَّ اِنَّا نَسْتَعِيْنُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِىْ عَلَيْكَ الْخَيْرَ وَنَشْكُرُكَ وَلاَ نَكْفُرُكَ وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَّفْجُرُكَ-اَللَّهُمَّ اِيَّاكَ نَعْبُدُ وَلَكَ نُصَلِّىْ وَنَسْجُدُ وَاِلَيْكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ وَنَرْجُوْ رَحْمَتَكَ وَنَخْشَى عَذَابَكَ اِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ

দোয়া কুনুত বাংলা উচ্চারণ

আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতাঈনুকা, ওয়া নাসতাগফিরুকা, ওয়া নু’মিনু বিকা, ওয়া নাতাওয়াককালু আলাইকা, ওয়া নুছনি আলাইকাল খাইর, ওয়া নাশকুরুকা, ওয়ালা-নাকফুরুকা, ওয়া নাখলায়ু ওয়া নাতরুকু, মাইয়্যাফ জুরুকা, আল্লাহুম্মা ইয়্যাকা না’বুদু ওয়ালাকা নুছাল্লি, ওয়া নাসজুদু ওয়া ইলাইকা নাসআ, ওয়া নাহ্ফিদু ওয়া নারজু রাহমাতাকা, ওনাখশা-আযাবাকা ইন্না আযাবাকা বিল কুফ্ফারি মুলহিক্ব।

দোয়া কুনুত এর বাংলা অনুবাদ

অর্থাৎ – হে আল্লাহ্! সত্য সত্যই আমরা তােমার নিকট সাহায্য চাহিতেছি ও ক্ষমা ভিক্ষা করিতেছি। তােমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করিতেছি ও তােমারই উপর নির্ভর করিতেছি। আমরা তােমারই মঙ্গল-গান করিতেছি ও তােমারই কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করিতেছি। তােমাকে অস্বীকার করিতেছি না। যাহারা তােমার অবাধ্য, আমরা তাহাদের প্রতি অসন্তুষ্ট ও তাহাদের থেকে দূরে থাকিতেছি। হে আল্লাহ! আমরা তােমারই এবাদত করিতেছি, তােমারই উদ্দেশ্যে নামায পড়িতেছি। তােমাকেই ছেজদা করিতেছি, তােমারই এবাদতের জন্য চেষ্টা করিতেছি এবং তােমারই ছেজদা করিতেছি। তােমারই কৃপা ভিক্ষা এবং আমরা তােমারই শাস্তির ভয় করিতেছি। সত্য সত্যই কাফেরগণ শাস্তি ভােগ করিবে।

 

হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মে’রাজ শরিফে যাইবার সময় যখন বাইতুল মুকাদ্দাস পর্যন্ত তাসরিফ নিয়েছিলেন। তখন সমস্ত পয়গাম্বরের রূহ মোবারক হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাক্ষাৎ ও আশীর্বাদ এর জন্য আসিলে, জিব্রাইল আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদেশ অনুযায়ী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইমাম হইয়া এক রাকাত নামাজ পড়িলেন। তারপর মিকাইল (আঃ) ৭০ হাজার ফেরেশতা লইয়া, হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মোলাকাত ও দোয়ার প্রত্যাশী হইলে, জিব্রাইল (আঃ) এর আদেশ অনুযায়ী তিনি পুনরায় আরো এক রাকাত নামাজ পড়িলেন।

ইহার পর ইস্রাফিল (আঃ) ৭০ হাজার ফেরেশতা লইয়া আশিয়া হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দোয়ার প্রত্যাশী হইলে,  জিব্রাইলের (আঃ)  হুকুম অনুযায়ী আবার হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁহাদিগকে মুক্তাদী করিয়া এক রাকাত নামাজ পড়লেন। তৎপর আজরাইল (আঃ) বহু ফেরেশতা লইয়া এরূপ বাসনা করিয়া উপস্থিত হইলে জিব্রাইল (আঃ) বললেন, হে প্রিয় পয়গাম্বর! আপনি ইহাদিগকে সঙ্গে করিয়া দোয়া কুনুত পাঠ করুন। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাহাই করিলেন। সুতরাং ঐ তিন রাকাত নামাজই আমাদের উপর ওয়াজিব হইয়াছে, যাহা বেতেরের নামাজ নামে পরিচিত। এবং বেতেরে দোয়া কুনুত পড়া ওয়াজিব হইয়াছে। আজ এ অধ্যায়ে আপনাদের জন্য দোয়া কুনুত এর আরবী, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ সমূহ আলোচনা করা হল। যাতে করে আপনারা সহজে এটি আয়ত্ব করে নিতে পারেন। 

 

দোয়া কুনুত না জানলে করনীয়

যাহারা দোয়া কুনুত একান্তপক্ষে না জানে তাহারা দোয়া কুনুত এর স্থলে নিম্নলিখিত দোয়া একবার পড়লেই চলবে-

(রাব্বানা আ-তিনা ফিদ্দুনইয়া হাছানাতাঁও ওয়া ফিল আখিরাতি হাছানাতাঁও ওয়াক্বিনা আজাবান্নার।)

অর্থ: হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে ইহকালে নেয়ামত (ধন-রত্ন, বিদ্যা-বুদ্ধি, এবাদত ও আওরাতে হাছীনা) এবং পরকালে (বেহেশতের হুর, গেলমান ও যাবতীয় সুখের ব্যবস্থা) প্রদান কর। আর আমাকে (পরকালে) দোজখের অগ্নি হইতে বাঁচাও ।

তবে যারা দোয়া কুনুত জানে না তাদের উচিত অতি দ্রুত দোয়া কুনুত শিখে নেওয়া। কারণ বেতেরের নামাজে দোয়া কুনুত পড়া ওয়াজিব।

 

আজকের আলোচনায় আপনাদের জন্য দোয়া কুনুত এর আরবী, বাংলা উচ্চারণ ও অর্থ সমূহ আলোচনা করা হল। যাতে করে আপনারা সহজে এটি আয়ত্ব করে নিতে পারেন। কতিপয় দোয়া সমূহের মধ্যে দোয়া কুনুত খুবই উল্লেখযোগ্য একটি দোয়া। আল্লাহ আমাদের সকলকে এর গুরুত্ব বুঝে তদ অনুযায়ী আমল করার তৈফিক দান করুন। আমিন।।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x
error: Content is protected !!