আকীদা কাকে বলে

আকীদা একটি আরবি শব্দ। আকদ অর্থ দৃঢ় গিঁট বা বন্ধন। আকীদা হল সেই ব্যক্তির দৃঢ় বিশ্বাস যার প্রতি তার অন্তরে দৃঢ় বন্ধন তৈরি হয় এবং সন্দেহ ও সংশয়ের কোন অবকাশ থাকে না। আকীদা শব্দের আভিধানিক অর্থ সম্পর্ক স্থাপন করা বা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে রাখা বা কোনো কিছুকে প্রতিষ্ঠিত করা বা শক্তিশালী করা। অতএব, আকীদা হল সেই ব্যক্তি যার সাথে একজন ব্যক্তি তার অন্তরের দৃঢ় সংযোগ স্থাপন করে।

আকীদা

 

 

আকীদা কাকে বলে

ইসলামী পরিভাষায় আকীদা হল ধর্মের এমন একটি বিষয় যা প্রত্যেক মুসলমানকে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে হবে এবং অন্তর থেকে বিশ্বাস করা ওয়াজিব। আর তাতে নফসের প্রশান্তি ও দৃঢ়তা লাভ করে, যে সকল প্রকার সন্দেহ ও সংশয় থেকে মুক্ত এবং এর জন্য সর্বদা নিজের জান-মাল উৎসর্গ করতে প্রস্তুত থাকে। সাধারণভাবে দৃঢ় বিশ্বাস ও অকাট্য কর্মকে আকীদা বলা হয়, যা মুমিনের মনে সন্দেহের কোনো অবকাশ রাখে না। আর ইসলামী আকীদা অর্থ হলো মহান প্রভুর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখা যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর স্রষ্টা এবং তাঁর উলুহিয়্যাত, রুবুবিয়্যাত ও বিশেষণে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস স্থাপন করা। তাঁর ফেরেশতাগণ, নবী-রাসূলগণ, তাদের প্রতি অবতীর্ণ কিতাব, তাক্বদীরের ভালো-মন্দ এবং দ্বীনের মৌলিক বিষয়ের খবর এবং বিশুদ্ধ দলীল দ্বারা প্রমাণিত অদৃশ্য বিষয়ের সংবাদ ইত্যাদি। ইসলামী আক্বীদাতে নিঃশর্ত আনুগত্য করা অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহর নাযিলকৃত সকল বিধি-বিধানের প্রতি এবং পূর্ণ আনুগত্য নিশ্চিত করা এবং রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর প্রচারিত শরীয়ত অনুসরণ করা।

 

আকীদা ও শরীয়ত দুটি ভিন্ন জিনিস। কারণ শরিয়ত হল ধর্মের কার্যকরী রূপ এবং আক্বীদা হল ধর্মের জ্ঞানীয় রূপ যার প্রতি একজন মুসলমানের আন্তরিক বিশ্বাস থাকতে হবে।

আকীদার মৌলিক বিষয়

১। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস: আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যেভাবে নিজেকে মানবজাতির সামনে তুলে ধরেছেন সেভাবে আল্লাহর সারমর্ম, গুণ ও কর্মের প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস করা।

২। ফেরেশতাদের প্রতি বিশ্বাস: কুরআন ও সহীহ হাদীসে বর্ণিত হুবহু তাদের প্রত্যেকের প্রতি ঈমান আনা।

৩। নবীদের প্রতি ঈমান: তাদের নবুওয়াত ও চরিত্রের প্রতি ঈমান আনা।

৪। আসমানী গ্রন্থের প্রতি বিশ্বাস: মূল চারটি গ্রন্থ তাওরাত, যাবুর, ইঞ্জীল ও কুরআনসহ নাযিলকৃত এবং সেইসাথে অবতীর্ণ অন্যান্য ছোট ছোট আসমানী গ্রন্থের ও ধর্মগ্রন্থের প্রতি বিশ্বাস।

৫। আখেরাতের প্রতি বিশ্বাস: অর্থাৎ পরকালের যাবতীয় সংবাদের প্রতি বিশ্বাস রাখা যা মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলের মাধ্যমে দুনিয়ার কাছে প্রকাশ করেছেন।

৬। তাক্বদীরের প্রতি বিশ্বাস: অর্থাৎ পৃথিবীতে যা কিছু ঘটছে তা মহান আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকই ঘটছে এবং তিনি মহাবিশ্ব সৃষ্টির অনেক আগেই ভবিষ্যতের ঘটনা লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন- এই বিশ্বাস জাগ্রত জ্ঞানের সাথে বজায় রাখতে হবে।

আলোচ্য ছয়টি বিষয়ে পূর্ণ বিশ্বাস রাখা একজন মুসলমানের জন্য অপরিহার্য। এগুলো পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদীসের অনেক দলিল দ্বারা প্রমাণিত [বাকারা ১৭৭, ২৮৫, নিসা ১৩৬, ক্বামার ৪৯,ফুরকান ২, মিশকাত হা/২ ‘ঈমান অধ্যায়’]

 

আকীদা ধ্বংসের মূল কারন ৪ টি

১- অজ্ঞতা এবং ধর্ম সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অভাব
২-অন্যান্ন ধর্মের অবৈধ আকীদার অনুপ্রবেশ
৩- কুরআন ও সুন্নাহর উপর নিজের বিবেককে প্রাধান্য দেওয়া।
৪- নিজের রুচি সম্মত আকীদা গ্রহণ করা।

 

আকীদার গুরুত্ব

ঈমান বা আকিদা শুদ্ধ না হলে নামাজ, রোযা সহ কোন ইবাদই আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য হবে না। যেমন কেউ যদি অন্তরে শিরক এর আকিদা পোষণ করে তাহলে সে যত ইবাদতই করুক না কেন তার সব আমলই বিফলে যাবে।

 

মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন,

لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
“যদি তুমি শিরক কর, তবে তোমার সমস্ত আমল বৃথা যাবে এবং তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।”

فَمَنْ يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِنْ بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى لَا انْفِصَامَ لَهَا
“সুতরাং যে তাগুতকে অবিশ্বাস করে এবং আল্লাহকে বিশ্বাস করে, সে যেন এমন জিনিসকে শক্ত করে ধরে রাখে যা ভাঙার নয়।”

 

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

مَنْ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَكَفَرَ بِمَا يُعْبَدُ مِنْ دُونِ اللَّهِ حَرُمَ مَالُهُ وَدَمُهُ وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ

‘‘যে ব্যক্তি ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্যান্য বাতিল মাবুদের ইবাদতকে অস্বীকার করবে, তার জান-মাল মুসলিমদের নিকট সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে এবং তার অন্তরে লুকায়িত বিষয়ের হিসাব আল্লাহর উপরই ন্যস্ত হবে’’।

 

উপরোক্ত আয়াতগুলো থেকে এটা স্পষ্ট যে, সকল নবী-রাসূল পৃথিবীতে এসেছেন এই মাযহাবের দাওয়াত নিয়ে। এই বিশ্বাসের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ এবং সমস্ত ভ্রান্ত বিশ্বাস ও ভ্রান্ত ধারণা নির্মূল করার জন্য সমস্ত আসমানী গ্রন্থ অবতীর্ণ হয়েছে।

সৃষ্ট জগতে যাদের জন্য শরীয়তের বিধান প্রযোজ্য তাদের প্রত্যেককেই এই আকীদা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তাই যে বিষয়ের এত গুরুত্ব ও মর্যাদা রয়েছে তা অন্য কিছুর আগে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা, পর্যালোচনা ও গবেষণা করা দরকার। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এটি সম্পর্কে জানতে হয়। কেননা, ইহকাল ও পরকালে মানব জাতির সুখ ও সফলতা নির্ভর করে।

 

শেষ কথা

উক্ত আলোচনায় আকীদা সম্পর্কে যে শিক্ষা আমরা পেয়েছি তা যদি মানব জীবনে প্রয়োগ করতে পারি, তবে আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে ইহকালীন শান্তি ও পরকালীন মুক্তি। আমরা বেশি বেশি শেয়ার করে সকলকে জানার সুযোগ তৈরি করে দিব। এতেও আল্লাহর সুন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব হবে। আজ এ পর্যন্ত আল্লাহ আমাদের সকলকে আমল করার তৈফিক দান করুন। আমিন।।

aqidah

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x
error: Content is protected !!